গভীররাতে ভয়াভহ আগুনে ভস্মীভূত হল পাঁচটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটে ইটাহার থানার মারনাই অঞ্জলের মিরজা দিঘি গ্রামে। মঙ্গলবার রাত্রি বারোটা নাগাদ এলাকার হামেদুল সরকারের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে গ্রামবাসিরা। গোটা এলাকা জুরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গ্রামের বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন কিন্তু কিছুতেই আগুন আয়ত্তে আনতে না পারাই দেখতে দেখতে পর পর পাঁচটি বাড়িতে নিমিসের মধ্যে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এরপর খবর দেওয়া দমকলকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ জেলা দমকলের দুটি ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে পাচঁটি বাড়ির সমস্ত কিছু পুরে ছাই হয়ে যায়। এমনকি চারটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। আগুন নেভানোর চেষ্টা ও ঘরের আসবাবপত্র বার করার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন সহ এলাকার বেশকিছু বাসিন্দারা আহত হন।
হামেদুল সরকার বলেন রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম গ্রামের লোকজন রাত্রি বারোটা নাগাদ চেঁচামেচি করে ডাকাডাকি করলে উঠে দেখি আগুনে বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে, ফলে ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাড়ির বাইরে আসি কোন রকম ভাবে। এড়পড় ধীরে ধীরে আগুন বারতে থাকে। ফলে নিজের বাড়ি সহ পার্শ্ববর্তী আফসার আলী, হাইদার আলি, হামেদা বেওয়া, লতিফুর রহমান এদের বাড়িও পুরে ছায় হয়ে যায়। ঘরে থাকা জিনিস পত্র সহ চাল, ডাল নষ্ট হয়। এমনকি চারটি গবাদিপশু মৃত্যুর হয়। দুদিন বাদে মেয়ে নুর সেবা বিয়ে ছিল ফলে বিয়ের বাজার সহ সোনা গহনা ও এক লক্ষ টাকা মজুত ছিল বাড়িতে সেই সমস্ত জিনিসও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।পাঁচটি পরিবার নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে।
এদিনের আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইটাহারের বিধায়ক অমল আচার্য। এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য মোশারফ হোসেন, ছিলেন এলাকার প্রধান আকালু শেখ, ইটাহার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আব্দুল সামাত ছাড়াও অনেকে। এদিন অমল বাবু পরিবার গুলির সাথে কথা বলেন এবং খতিগ্রস্ত বাড়িগুলি দেখেন পাশাপাশি তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে ওই পরিবার গুলির হাতে আর্থিক সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এর পাশাপাশি এদিন জেলা পরিষদের সদস্য মোশারফ হোসেন ১০ হাজার টাকা, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ৮ হাজার টাকা, প্রধান ৫ হাজার টাকা ও তৃণমূলের নেতা আনেসুর রহমান ২ হাজার টাকা ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন। বিডিও অফিস থেকে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং খতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন কিছু কাপড়, রান্না করার জন্য বাসন, ত্রিপল। এছাড়াও গ্রামবাসীরা তাদের যথাসাধ্য সম্ভব চেষ্টা করেন খাবারের কিছু জিনিস দিয়ে সাহায্য করার।
অমল বাবু খতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনে এসে বলেন পরিবারগুলি আগুন লাগার ঘটনায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। সবই হারিয়েছে তারা। ফলে প্রাথমিক ভাবে তাদের পাশে থেকে কিছু সাহায্য করা হল। এমনকি এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে বলা হয়েছে পাচঁ দিন ধরে তাদের খাওয়ার ব্যাবস্থা করার স্হানীয় কোন ব্যাক্তির বাড়িতে, পাশাপাশি পরিবার গুলিকে সরকারি ভাবে কি ধরনের সাহায্য করা যায় তার ব্যবস্থাও করা হবে বলে তিনি জানান। তবে এলাকার বাসিন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে মাটির উনুন থেকেই আগুনের উৎপত্তি বলে মনে করছেন তারা।